শেষ সম্বল খুপড়ি ঘর হারানোর ভয়ে চোখের জলে দিন কাটছে বৃদ্ধার

শেষ সম্বল খুপড়ি ঘর হারানোর ভয়ে চোখের জলে দিন কাটছে বৃদ্ধার
বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কার্তিকদিয়া পূর্বপাড়া, গ্রামের বৃদ্ধা বিধবা গোলজান বিবি। থাকেন ভৈরব, নদীর তীরে একটি খুপড়ি ঘরে। এক সময় বাপ-দাদার ভিটে-বাড়ি সবই ছিলো। বছরের পর, বছর ধরে নদী ভাঙ্গনে সব হারিয়েছেন তিনি,,,।

সম্প্রতি ভৈরব নদীর ভাঙ্গনে শেষ সম্বল তার “খুপড়ি” ঘরটিও পরেছে ঝুঁকির মুখে;। যে কোন সময় ঘরটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে তার। শুধু,মাত্র (গোলজান বিবি) নয়

সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর,, ও বারইপাড়া ইউনিয়নে তার মত প্রায় অর্ধশত পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ভাঙ্গন ঝুঁকিতে থাকা এ, পরিবার গুলো ঘরবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী, জানিয়েছেন;

সরেজমিনে সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর, ও বারুইপাড়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বড় বড় ফাটল ধরেছে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুরামারা গ্রামের ভৈরব নদীর পাড়ে। ভৈরব নদীর ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বিষ্ণুপুর, ইউনিয়নের আলোর ঘাট, আমতলা ঘাট, জেলাপাড়া, দারোগার

ঘাট, চড়কুলিয়া দাইরসহ বিভিন্ন গ্রামে বসবাস করা মানুষের বসত ভিটা ও ফসলি জমি। অনেকেই নদী ভাঙ্গনে বাপ, দাদার ভিটে-বাড়ি হারিয়ে
নিঃস্ব হয়েছেন,,,।

বৃদ্ধা গোলজান বিবি জানান, এক সময় কার্তিকদিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে তাদের সব ছিলো,,। বাপ-দাদার ভিটে-বাড়ি সব নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী, তীরে একটি খুপড়ি ঘর তার ,শেষ সম্বল। সম্প্রতি ভারি বৃষ্টিপাতে নদী ভাঙ্গন, দেখা দিলে তার ঘরটি ঝুঁকির মধ্যে পরে। আশ,পাশের প্রতিবেশি, ও নিজ প্রচেষ্টায়, বাঁধ দিয়ে চেষ্টা করছেন ঘরটি রক্ষার। তবে যে কো,ন সময় শেষ সম্বল ঘরটি, হারানোর শঙ্কায়

দিনপার করছেন তিনিবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুরামারা গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল শেখ বলেন, “এক সময় আমাদের বাড়ীর পাশেই হাট বসতো। নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে সব শেষ হয়ে গেছে। বাপ,-দাদার, বসত বাড়ী ফসলি জমি সব শেষ,।

কিছুদিন আগে হঠাৎ নদী পাড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। এমন অবস্থায় শেষ সম্বল আমাদের এই বাড়ীটি রক্ষা করতে পারবো কি না জানি না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্র,শাসনের কাছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমার, একটাই দাবি ,দ্রুত ভেড়িবাঁধ এর মাধ্যমে আমাদের, বাড়ি-ঘর রক্ষার ব্যবস্থা করা হক,,।

একই এলাকার আমেনা বেগম বলেন, ,নদী ভাঙ্গতি ভাঙ্গতি আমার ঘরের কাছে চলে আইছে। আর এক হাত বাকি আছে। ঘরের মধ্যই ফাটল ধরিছে, যে কোন সময় ঘর দুয়োর ভাইঙ্গে নদীতি ভাইসে যাবে;।

বিষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান শংকর চক্রবর্ত্তি বলেন, আমার ইউনিয়নে আলোর ঘাট, আমতলা” ঘাট, জেলাপাড়া, দারোগার ঘাট, চড়কুলিয়া দাইরসহ বিভিন্ন গ্রামে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতি মধ্যেই. বেশকিছু এলাকার ফসলি জমি, গাছপালা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। আমি স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কাছে জনগনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাচ্ছি।

বাগেরহাট, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল” ইসলাম বলেন, সম্প্রতি অতি বৃষ্টির কারনে ভৈরব নদী তীরবর্তি কিছু এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে. লিখিত প্রতিবেদন আকারে” জেলা, প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করবো,। এছাড়া উপজেলা” পরিষদ থেকে ছোট ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে আমরা দ্রুত ভাঙ্গন কবলিত এলাকা মেরামতের আশ্বাস দেন তিনি,,,

About jacob done

Check Also

এহসান” গুরুপ নিয়ে খ্যাত, কুয়াকাটা হুজুরের মন্তব্য!

এহসান” গুরুপ নিয়ে খ্যাত, কুয়াকাটা হুজুরের মন্তব্য! ”হেলিকপ্টার হুজুর” খ্যাত কুয়াকাটার মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান’ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *