Breaking News

মাংস খেলে গজাতে পারে অস্বাভাবিক লোম, আরো যেসব ক্ষতি

ঘরে ঘরে কোরবানির পশুর মাংস। অনেকে এরই মধ্যে কবজি ডুবিয়ে হামলে পড়েছেন মাংসের ওপর। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণে মাংসে অতি প্রয়োজনীয় হলে বেশি খেলে বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
বেশি খেলে কী হবে?

অস্বাভাবিক লোম গজানো: যদি আপনি অত্যধিক মাংস খান, তাহলে অন্যান্য গ্রুপের খাবার খাওয়ার ইচ্ছা ধীরে ধীরে কমে যাবে। আপনি কৃষিজাত খাবারের পরিবর্তে শুধু মাংস খান, তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবেই ভিটামিন সি এর ঘাটতিতে পড়বেন। এর ফলে আপনার ত্বক রুক্ষ, অমসৃণ ও তৈলাক্ত হতে পারে। তাছাড়া, শরীরে গজাতে পারে অস্বাভাবিক লোম।

শরীরে প্রদাহ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা: মাংসের স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি করতে পারে। পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট নিশ্চিত করতে প্রতিদিন একটি অতিরিক্ত ফল বা শাকসবজি খাওয়া যেতে পারে।

ঘুম ঘুম ভাব অনুভূত হওয়া: বেশি মাংস খাওয়ার ফলে আপনার ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব অনুভূত হবে। আপনার শরীরে থাকা প্রোটিন হজম হতে বেশ কিছুটা সময় নেয়, তাই তাৎক্ষণিকভাবে আপনি শক্তি পান না। যেহেতু আপনার মস্তিষ্ক শক্তির জন্য কেবলমাত্র গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে, তাই প্রোটিন হজমে সময় লাগার কারণে শক্তির সরবরাহ ধীরগতিতে হয়।

ওজন বেড়ে যাওয়া: অত্যধিক প্রোটিন অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। ফলে বেড়ে যাবে ওজন। আর বাড়তি ওজনের শরীর রোগাক্রান্ত হয় সহজেই।

কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া: সাধারণত ফল, শাকসবজি ও গোটা শস্য (হোল গ্রেন) আঁশযুক্ত হলেও মাংস মোটেও আঁশযুক্ত খাবার নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য হচ্ছে শরীরে আঁশের ঘাটতির প্রথম লক্ষণ। শরীরে আঁশের ঘাটতি পূরণের অন্যতম সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে ফল ও শাকসবজি, কারণ এসব খাবারে অন্যান্য পুষ্টিও পাওয়া সম্ভব।

ক্যান্সারের ঝুঁকি: গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ১৮ আউন্সেরও বেশি লাল মাংস খাওয়ার ফলে কোলরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডায়েট থেকে গরুর মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস কমিয়ে পোল্ট্রি অথবা লেগিউমের মতো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন গ্রহণ করলে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।

হৃদরোগের ঝুঁকি: আপনার মাংস নির্বাচন লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস হয় (বিশেষ করে গোটা শস্য ও অন্যান্য আঁশের উৎসের পরিবর্তে), তাহলে আপনার হার্টের ওপর খুব নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কতটুকু খাবেন?

পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম হাসিন জানিয়েছেন, মানুষের ওজনের ওপর প্রোটিনের চাহিদা নির্ভর করে। একজন মানুষের আদর্শ ওজন ৫০ কেজি হলে তার ৫০ গ্রামের মতো প্রোটিন প্রয়োজন। তবে তার কিডনি জটিলতা থাকলে তিনি প্রতিদিন ২৫ গ্রাম প্রোটিন খাবেন।

আবার মেয়েদের মাসিক চলাকালীন কিংবা গর্ভবতী অবস্থায় এই পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আদর্শ ওজন ৫০ কেজি হলে তারা ১০০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন খেতে পারবেন।

তার মতে, গরুর মাংস খাওয়ার নিরাপদ মাত্রা হল সপ্তাহে দুই দিন, মোট তিন থেকে পাঁচ বেলা খাওয়া। এই দুই দিনে আপনি মোট ১৫৪ গ্রাম গরুর মাংস খেতে পারবেন। সপ্তাহের ওই দুই দিন প্রতি বেলায় আপনার পাতে মাংসের পরিমাণ হবে ২/৩ টুকরো।

About jacob done

Check Also

মায়ের জন্য সন্তান বু,দ্ধিমান হয়;গবেষণা

মায়ের জন্য সন্তান বু,দ্ধিমান হয়;গবেষণা আন্ডারস্টছান্ডিং মাদারস জেনেটিকস নামের এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, মায়ের সঙ্গ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *