Breaking News

বেশি রিকশায় আয় কমেছে চালকদের

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকার গফুর আলী (৫০) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে একটি মেসে থাকেন। পেশায় রিকশাচালক। তাঁর পাঁচ সদস্যের পরিবার। ‘কঠোর লকডাউন’ শুরুর পর তাঁর আয় অনেক কমে গেছে। কারণ সড়কে মানুষজন কম, ভাড়াই পাওয়া যায় না। লকডাউনের কারণে অনেকেই দূরের গন্তব্যে যেতে রিকশাই ব্যবহার করছেন। এ ক্ষেত্রে ভাড়া বেশি পড়ছে। বাড়তি আয়ের জন্য অনেক রিকশাচালক দূরের ভাড়া মারতেই বেশি আগ্রহী। টঙ্গীর মতিয়ার রহমান বলেন।

গফুর বলেন, ‘এখন যা রোজগার হয়, তা রিকশা জমার টাকা, নিজের খরচ আর মেসভাড়া দিতেই চলে যায়। বাড়িতে টাকা পাঠানো যায় না। আগে প্রতিদিন কমবেশি ৮০০ টাকার মতো আয় হতো। এখন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বেশি হয় না। একটা যাত্রীর জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো সাহায্য পাইনি। সিস্টেম কইরা ভাড়া নিতে পারলে আরো বেশি হয়। যেমন—দূরের দুই-তিনটা ভাড়া মারতে পারলেই ভালো ইনকাম হয়।

নওগাঁর পত্নীতলার মাসুদ আলী থাকেন কাওলা এলাকায়। বিমানবন্দরের সামনের সড়কে কালের কণ্ঠ’র এই প্রতিবেদকের  সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় থাকি সাত বছর। এত খারাপ অবস্থায় এর আগে পড়িনি। লকডাউন না থাকলেও ঈদে বাড়ি যাওয়া হবে না। কারণ রোজগার নেই।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) ২০১৯ সালের গবেষণা বলছে, রাজধানীতে রিকশা চলে ১১ লাখের মতো। গত দুই বছরে এই সংখ্যা আরো বেড়েছে। লকডাউনের আগে একজন রিকশাচালকের দৈনিক গড় আয় ছিল ৮০০ টাকার মতো। এখন তা গড়ে ৪০০ টাকার নিচে নেমেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, রিকশার তুলনায় যাত্রী অনেক কম। ফলে যাত্রী দেখলেই ঘিরে ধরছেন চালকরা। শেরপুর সদরের শফিকুল ইসলাম মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকায় থাকেন। এই রিকশাচালক বলেন,  ‘মাকেট-অফিস বন্ধ। আগের মতো ইনকাম নেই।’ কালাচাঁদপুর আগুনবাড়ি এলাকার রিকশাচালক রমজান মিয়া বলেন, ‘গরিব মানুষের মরণ হলো এই লকডাউনে। এখন সারা দিনে তিন শ টাকার মতো আয় হয়। সরকারি সহায়তা ছাড়া বাঁচা মুশকিল।

মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের রাশেদ মিয়া পরিবার নিয়ে থাকের শ্যামপুরের ফরিদাবাদ এলাকায়। চকবাজার এলাকায় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় লোক না থাকলে কাজ হইবো কেমনে? কোনো কোনো রাস্তায় মানুষের চেয়ে রিকশা বেশি। এই অভাবের সময় সরকার কাদের ত্রাণ দিচ্ছে? আমরা এখনো পাইনি।

কুড়িল বিশ্বরোড মোড়ে নুরেরচালা এলাকার বাসিন্দা ও রিকশাচালক নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আগে হাজারখানেক ইনকাম হইতো। সকাল ৯টায় বের হইছি, এখন দুপুর আড়াইটা। মাত্র ১৮০ টাকার ভাড়া মারছি। রিকশার জমাই দেড় শ টাকা। উত্তরখানের আটপাড়ার রিকশাচালক মো. আনোয়ার বলেন, ‘আগে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যেই সাত-আট শ টাকা আয় হতো। এখন রাত পর্যন্ত কাজ করলেও চার-পাঁচ শর বেশি হয় না।’

About admin

Check Also

এসএসসি-এইচএসসির বিকল্প পদ্ধতির ঈদের পর

জুলাই মাসে করোনা পরিস্থিতি খারাপ থাকলে ঝুলে থাকা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *