Breaking News

বাসর রাত তাই চিৎকার ক,রে,নি ১৪-বছরের ছোট্ট রিমা;

বাসর রাত তাই চিৎকার ক,রে,নি ১৪-বছরের ছোট্ট রিমা;
সময় রাত ২টা ৪৫ মিনিট। ডিউটি ডাক্তার সবে মাত্র বি,শ্রাম নেয়ার জন্য ঘুম ঘুম চোখে বি,ছানা,য়। ই’মারজে’ন্সি থেকে কল আ’সল।

চো’খের পাতায় ঘুম ঠেসে, ই’মারজেন্সি,তে এসে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা। মহিলা রোগী,, পরনের চাদর রক্তে ভেজা। মুখের রঙফ্যাকাসে, সাদা। কাপড় দেখেই বোঝা যাচ্ছে নতুন বিয়ে হয়েছে। রো’গীর নাম রিমা(ছদ্ম নাম)। হিষ্ট্রি নেয়ার জন্য ডাক্তার জানতে চাইল, কি হয়েছে? রো’গী’র সাথে সদ্য বি’বা’হিত জা’মা’ই,, জা এবং আরও ৪-৫ জন এসেছে;

ডাক্তারের প্রশ্ন শুনেই রো’গীর বর চো’রে’র মত, রুম থেকে বের হয়ে গেল। রোগী’র সঙ্গে আসা এক মহিলা তে’জে’র সাথে বলল, ‘ডাক্তার হইছেন, বুঝেন না কেরে, সব বলতে হইবো!’ ওদের গ্রামে গাছের মাথায় বা’ধা মাইকটিতে একটির পর একটি বিয়ে’র গান বেজে চলছে।

বিয়ে বাড়িতে সবাই ব্যস্ত। বর পক্ষের যারা এ,সে,ছে, কথা বার্তায় অভিজাত ও ব্য’ক্তিত্ব দেখানোর চে’ষ্টায় ব্য’স্ত। দর ক’ষা’ক’ষি করার পরে, কনে পক্ষ থেকে যৌ’’তু’ক হিসেবে যা পাওয়া গেছে, তা নে’হা’ত’ই কম নয়;।

কিন্তু কম হয়ে গেছে কনের বয়স। বাচ্চা মেয়ে,,নাম রিমি বেগম, সবে মাত্র ১৪ পেরিয়ে ১৫ বছরে পড়েছে। মেয়ের বাবাও মো,টা,মুটি ভাবে লাল শাড়ি পড়িয়ে মে,য়ে,কে বিদায় দিতে পেরে খুশি। মে,য়ে হলে তো বি’দায় দিতেই হবে। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত মে’য়ে’কে পড়িয়েছে। কম কি! তাছাড়া, শো,না যাচ্ছে ছেলেও নাকি ভাল। বাড়ির উ,ঠোনে বসে মুখে পান চি’বোতে চিবোতে ছে’2লের মামা বলল,,এমন ছেলে কোথায় পাবেন মিয়া,,,

তাছাড়া, ছেলে মানুষের একটু দো’ষ থাকলেও সমস্যা নেই, বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাবে।’ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেয়েকে নিয়ে আসা হল তার নতুন ঘরে। যে মেয়েটি সবে মাত্র জীবনের সংজ্ঞা

শিখতে শুরু করেছে, শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখতে যাচ্ছে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তার আজ বা’স’র রাত। পু’রুষতান্ত্রিক এই সমাজে সতীত্ব যাচাই করার উৎসব। আর বিয়ে তো একটি সামাজিক বৈ’ধতা মাত্র। সমাজ অনেক এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিয়ের সময় মে’য়ের মতামতটা এখনও গৌন

মে’য়ের যদি মতামত না নেওয়া হয় বা পরিবারের কারও ধ’মকে মতামত দানের পর বিয়ে হয়, তাহলে তাকে ধ*ণ না বলে উপায় নেই। রিমা র ইচ্ছে করছে, চি’ৎকার ক’রতে, কিন্তু বা,স,র ঘরে চি,ৎকার করা যে উচিত নয়, এতটুকু বুঝতে শিখেছে রিমা। হাত পা ছুঁড়ে বরের লা,ল,সা,র যজ্ঞ থেকে বেরিয়ে আসার মি’’থ্যে চেষ্টা। সমাজ বিধীত ‘বর’, যখন আদিম পশুত্ব থেকে বাস্তবে ফিরে আসে, তখন রিমা রক্তে ভেজা। তখনও ফিনকির মত রক্ত যাচ্ছে।

ক্রমান্বয়ে সাদা ফ্যা’কাসে হয়ে আ’সছে মুখের রঙ! রিমা এখন হাসপাতালের বেডে অ’চেতন হয়ে শু”য়ে আছে। তাকে যখন হা’সপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে, রিমা চোখ পড়েছি’ল শ্বশুর,,বাড়ির লোকজনের ও,,পর। তারা যে কানাকানি করে কথা বলছিল, ব্য’ঙ্গা’ত্ম’ক হাসি তামাশা করছিল। যেন সব দোষ রিমা। ল’জ্জায় কারও,, দিকে তাকাতেও ভয় করে। তারপর ইঞ্জিন চালিত গাড়ীর প্র’চ’ণ্ড শব্দ। আরও এলোমেলো কিছু মুহূর্ত। কিছুক্ষণ পর, সাদা এপ্রোন পড়া একজন,, ডাক্তার এসে তার হাত ধ,রেছে।

মনে আছে শুধু এটুকুই। ডাক্তার নার্সকে সাথে নিয়ে, রিমা বেগমকে পরীক্ষা,, করলেন। ভ’য়াবহ রকমের পেরিনিয়াল টি,য়ার (যৌ,না,ঙ্গ ও তার আশপাশ ছিঁ’’ড়ে গেছে)। তখনও র’’ক্ত যাচ্ছে প্রচুর। হাতে পালস দেখা হল। খুবই কম। জ’রুরি ভিত্তিতে রো’গী’কে র’ক্ত দেয়া দরকার। জ’রুরি অব’স্থায় অ’পারেশন করে ছিঁ’ড়ে যাওয়া অংশ ঠিক ক’রতে হবে। এই ভ’য়াবহ সং’কটাপ’ন্ন রো’গীকে নিয়ে হিমসিম খাওয়ার অবস্থা কর্তব্যরত ডা’ক্তারের।

ম্যাডামকে ফোন করা হল… প্রাথমিক ভাবে ম্যানেজ করার জন্য র’ক্ত দরকার… রো’গী’র সাথে যারা এসেছে এতক্ষণ ইমা’রজেন্সি রুমের সামনে চিল্লা পাল্লা করছিল। ডাক্তার এসে জা’নালো জ’রুরি ভিত্তিতে র’ক্ত দরকার। তখন সবাই চুপ। কেউ কেউ কে’টে পড়ার জন্য পাশে সরে গেল। কিছুক্ষণ পর রো’গী’র লোক জা’নালো, তারা র’’ক্ত জোগাড় ক,,রতে পারবে না। যা হয় হবে! ডাক্তার তাদের বু,ঝানোর চে’ষ্টা করলেন,,।

কিন্তু লাভ হল না… রাত সাড়ে তিনটায় ম্যাডাম আ’সলেন। তার ধ’ম’কে শে,,ষ পর্যন্ত তারা র’’ক্ত জো’গাড় ক’রতে রাজি হল। কিন্তু র’ক্ত আর সেই রাতে জো’গা’ড় হল না। অ’পা’রে’শ’ন থি’য়ে’টা’রে রিমাকে নিয়ে গিয়ে টিয়ার রিপেয়ার করা হল। সকালে রো’গীর শ্বশুরবাড়ির লোক সবাই উধাও রিমার বাবা আ’স’লে’ন সেই ভোরে, র’’ক্ত জোগাড় হল কোন,, রকমে। ছয়দিন পর, রো’গীর সেপ্টিসেমিয়া ডেভলপ করলো।

ইনফেকশন র’’ক্তে ছ’ড়িয়ে গেছে। ভাল অ্যান্টিবায়োটিক দরকার। রো’গীর বাবা এসে বললেন, তারা আর খরচ চালাতে পারবেন না। ডাক্তার প’রা’ম’র্শ দিলেন, কোন স’র’কা’রি হা’সপা’তালে ভর্তি করাতে, তাহলে ঔষধ কেনার খরচ কিছুটা বাঁ’চ’বে। কিন্তু, হাসপাতাল মানে তো, কা’জক’র্ম রেখে একজনকে রো’গীর পাশে থাকতে হবে। রি’লিজ দিয়ে বাসায় নিয়ে যেতে চা’চ্ছেন, যা হবার হবে। রিলিজ নিয়ে রিমাকে বাসায় নেয়া হল।

আরও বেশি অ’সু’স্থ হওয়ায় চারদিন পরে আবার হা’সপা’তালে ভর্তি করা হল। পরদিন ভোর ভোর সময়। একবার চোখ খু’লে আবার ব’’ন্ধ করলো রিমা। সেই ব’’ন্ধ শেষ বন্ধ। এই সমাজে’র প্রতি ঘৃণায় চোখ জ্বল জ্বল করছিল কি না কেউ দে’খতে পারেনি। ভোরের স্বল্প আলোয় বিদায় জানালো জীবনের নিষ্ঠুরতাকে! রিমা‘একিউট রেনাল ফেইলরে’ মা’’রা গেছে। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ডায়ালাইসিসের জন্য বলা হয়েছিল, তারা রোগী নিয়ে এত ঝামেলা ক’রতে পারবে না। শ্বশুরবাড়ি থেকে সেই বা”স”র রাতের পর, কেউ আসেনি। তাদেরই বা এত চিন্তা কি, একটা বউ মরলে দশটা বউ পাওয়া যায়! রিমা একা নয়, এ রকম ঘ’ট’না প্রায়ই দেখা যায়। এই ঘ’টনা গুলো চক্ষু ল’জ্জা’র ভয়ে প্র’কাশ হয় না। কিন্তু সচে’ত’নতা জ’রুরি।

About jacob done

Check Also

১- ক্লাসের মাত্র” একজন ছাত্রী’ বাকি ‘মেয়েদের বিয়ে!

১- ক্লাসের মাত্র” একজন ছাত্রী’ বাকি ‘মেয়েদের বিয়ে! দেড়বছর করোনার ঢেউয়ে নিমজ্জি’ত ছিল দেশের শিক্ষাঙ্গন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *