Breaking News

জমজম কূপ;আল্লাহর অনন্য নিয়ামত- প্রতিদিনের সংবাদ

01 জমজম কূপ;আল্লাহর অনন্য নিয়ামত- প্রতিদিনের সংবাদ
————————————

বিশ্বে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের যত বিস্ময়কর নি,দ,র্শ,ন রয়েছে জমজম কূপ তার একটি। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে পবিত্র কাবা ঘরের সন্নিকটে এ মহা বরকতময় কূপটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। আল্লাহর নির্দেশে (হজরত ইবরাহিম আ:) বিবি হাজেরা ও দুগ্ধপোষ্য শিশু ইসমাঈল আ:কে জনমানবহীন খানায়ে কাবার কাছে নির্বাসনে রেখে যেতে আদিষ্ট হন। সামান্য পানি ও কিছু খেজুরসহ তিনি তাদেরকে সেখানে রেখে যান।

যাবার সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেছিলেন, ‘হে প্রভু! জনমানবহীন মরুপ্রান্তরে তোমার পবিত্র ঘরের কাছে আমার সন্তানকে রেখে গেলাম; যেন তারা সালাত কায়েম করে। আর তাদের প্রতি তুমি মানুষের অন্তরকে ধাবিত করে দিও এবং তাদেরকে ফলফলাদি দ্বারা রিজিক দান করিও; যেন তারা তোমার শোকরগোজার হয়।’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত-৩৭)

ইবরাহিম আ: দোয়া করে চলে যাওয়ার পর হাজেরা সন্তানকে বুকে ধারণ করে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল হয়ে সেখানে থাকতে লাগলেন। কোনো প্রতিবেশী ও খাদ্য-পানীয় ছাড়া তিনি এভাবে বেশ কিছু দিন কাটাতে থাকেন। বুকের দুধ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর ইসমাঈল আ: যখন ক্ষুধায় কাতর হয়ে ছটফট করছিল, তখন তিনি দুগ্ধপোষ্য শিশুর জীবন বাঁচানোর জন্য একবার সাফা পাহাড়ের ওপর আরেকবার মারওয়া পাহাড়ের ওপর ছোটাছুটি করছিলেন। একসময় দেখতে পেলেন, ছেলের পায়ের আঘাতে পানির ফোয়ারা উথলে উঠছে। চারদিকে তিনি বালু ও পাথর দিয়ে পানির প্রবাহ থামালেন। সেই কুদরতি পানির ঝরনাধারাটিই হচ্ছে জমজম কূপ। এই পানি কখনো বন্ধ হবে না। বিরতিহীনভাবে পৃথিবীবাসীকে তৃপ্ত করে চলবে।

এটি হলো জমজম কূপের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। এবার আপনাদের একজন বিজ্ঞানীর কথা বলব। তিনি জাপানি নাগরিক ড. মাসারু ইমোতো জাপানের বিখ্যাত ইয়াকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। ‘পানির ব্যবহার’ বিষয় নিয়ে গবেষণা করে তিনি দারুণভাবে আলোচিত। পানি নিয়ে উৎসুক এ বিজ্ঞানী পানি নিয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এ কৌতূহলোদ্দীপক বিজ্ঞানী পবিত্র মক্কার পবিত্র জমজম কূপের পানি নিয়ে গবেষণা করেছেন। গবেষণার বিষয়বস্তু তিনি মালয়েশিয়ার এক সেমিনারে উপস্থাপন করেন। গবেষণায় তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, জমজমের পানিই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানি। সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণার সারাংশ হলোÑ ‘জমজমের পানির সমপরিমাণ কনটেন্ট বিশ্বের আর কোনো পানিতে নেই। জমজমের পানির অণুগুলো হলো বিশ্বের অন্যান্য পানির তুলনায় সবচেয়ে সুন্দর এবং ভারসাম্যপূর্ণ। জমজমের পানিতে প্রচুর নিরাময় শক্তি রয়েছে। এটি সর্বদা প্রার্থনা বেষ্টিত থাকে, ফলে সমস্ত রোগ তা নিরাময় করতে পারে।’

পবিত্র জমজম নিয়ে রাসূল সা:-এর বহু হাদিস রয়েছে। ইবনে আব্বাস রা: কর্তৃক বর্ণিত। মহানবী সা: ইরশাদ করেছেন, ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পানি হলো জমজমের পানি। তাতে রয়েছে তৃপ্তির খাদ্য ও ব্যাধির আরোগ্য।’ (আল-মুজামুল আউসাত, হাদিস-৩১২) প্রিয় রাসূল সা: প্রায় দেড় হাজার বছর আগে যা বলে গেছেন, বিজ্ঞানীরা তা আজকে প্রমাণ করতে সক্ষম হচ্ছেন।

জাপানের বিখ্যাত গবেষক মাসারু ইমোতোর মতে, জমজমের এক ফোঁটা পানির যে নিজস্ব খনিজ গুণাগুণ আছে, তা পৃথিবীর অন্য কোনো পানিতে নেই। তিনি আরো বলেন, সাধারণ পানির এক হাজার ফোঁটার সাথে যদি জমজমের পানির এক ফোঁটা মেশানো হয়, তাহলে সেই মিশ্রণও জমজমের পানির মতো বিশুদ্ধ হয়। জমজমের পানির মতো বিশুদ্ধ পানি পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না।

ইবরাহিম খলিলুল্লাহ আ: ,এর ছেলে হজরত ইসমাঈল ও স্ত্রী হাজেরা আ:-এর এই স্মৃতিকে মহান আল্লাহ এতটাই বরকতময় করে রেখেছেন যে, পৃথিবীতে এই পানির নজির আর তিনি রা,খেননি। এই পানিকে তিনি বানি,য়ে,ছেন সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত এবং হাজারো জীবাণুর প্রতিষেধক।

About jacob done

Check Also

সর্ব-প্রথম আমাদের নবী-কে দেখার ও স্পর্শ’ করার সৌভাগ্য হয়েছিল যে, মানুষটির!

সর্ব-প্রথম আমাদের নবী-কে দেখার ও স্পর্শ’ করার সৌভাগ্য হয়েছিল যে, মানুষটির! আমাদের প্রিয় নবী হজরত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *