Breaking News

খুব উপকার হইল এইলা দে কিছুদিন খাইল যাবে

৮৫ বছর বয়সী হাজারু মোহাম্মদ। স্ত্রীকে নিয়ে একা থাকেন ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী হরিপুর উপজেলার যাদুরাণী এলাকায়। বার্ধক্যজনিত কারণে কাজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন। সংসারে আর কেউ নেই। স্ত্রী কোহিনূর অন্যের বাড়িতে বুয়ার কাজ করে যা রোজগার করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করেন তাঁরা। করোনার এই দুঃসময়ে হাজারু মোহাম্মদের হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।

ত্রাণ পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হাজারু মোহাম্মদ বলেন, ‘মোর বউ মাইনসের বাড়িত কাজ করে যেইডা পাও, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলিছিল। এই লোকডাউনে ওইডাও বন্ধ, কাহারো বাড়িত যাওয়া যায় না। লোকডাউনে কাজ-কামও নাই। ঘরের থেকে বাহির হবা পারো না। হামার দিন খুব কষ্টত যাছে। এলা বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পায় খুব উপকার হইল। এইলা দে কিছুদিন খাইল যাবে।’

শুধু হাজারু মোহাম্মদ নন, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি উপজেলায় ৯০০ হতদরিদ্রের হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন শুভসংঘের সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হরিপুর উপজেলার যাদুরাণী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও হরিপুর মহিলা কলেজ মাঠ, দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলা ডিগ্রি কলেজ মাঠ ও মীরডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এবং বিকেলে পীরগঞ্জ উপজেলার মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ও লোহাগাড়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

উপকারভোগীদের একজন রাণীশংকৈল উপজেলার অটোগাড়িচালক আবু সামাদ। লকডাউনের কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় কঠিন সময় পার করছেন তিনি। করতে পারছেন না কোনো আয়-রোজগার। ঘরে পালন করা কয়েকটি হাঁস-মুরগি বিক্রি করে লকডাউনে বসে দুমুঠো খাচ্ছেন। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি বলেন, ‘লকডাউনেরতাই গাড়ি চালানা পারু না। টাকা-পয়সা নাই। দুই বেলা খাইতে পারু না। এলা বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পায় খুব উপকার হইল। ১০ দিন খাইল যাবে।’

শফিকুল ইসলাম নামের আরেক অটোচালক বলেন, ‘মুই অটো চালাই সংসার চালাও। লকডাউনেরতাই এলা ঠিকমতো অটো চালাবা পারু না। পুলিশলা পিটাছে হামাক অটোলা আটকায় থছে। হামা কি খালি বাতাস খায়ে বাঁচিমো। কেহ হামাক সাহায্য দেয়নি। আইজ বসুন্ধরা গ্রুপ হামাক সাহায্য দিল। এইলা ভেইল দিন খাইল যাবে।

বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ সহায়তা নিতে এসেছেন পীরগঞ্জ উপজেলার রমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মুই রোড সিমেন্টের দোকানে কাম করু। লকডাউনের তাহে হামা দোকান বন্ধ। মোর পরিবারের ছুয়া-মেয়ে আছে। এঙ্গরে লকডাউন দিলে হামা গরিব মানুষ লা খামো কী? না খাই মরিমো নাকি। হামার ঘরত লাখ টাকা নাই যে মুই বাড়িত বসে বসে খাম। মোর একটা ছুয়া ছে, ওই ছুয়াডা ভালো তরকারি ছাড়া ভাত খাবা চাহে না। ওক মুই যে একটা ডিমা কিনে দিম পয়সা নাই মোরঠে। আইজ বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে অনেক লা খাবার পানু। এলা চাইট্টা খাইল যাবে পেট ভরে।

একই উপজেলার শরীফ আলী নামের এক উপকারভোগী বলেন, ‘মুই মানুষের হোটলত কাম করু। লকডাউনে তাই হোটেল বন্ধ। বাড়িত খাবার কিছু নাই। কেহ এক টাকা দিয়া হামাক সাহায্য করে না। হামেরা কয়েক দিন থেকে ঠিকমতো খাবা পারি না। আইজ বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে সাহায্য পানু। মোর পরিবারসহ অনেক দিন খাবা পারিমো।’
এই ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমে তিন উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও শুভসংঘের জেলা, উপজেলা পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হরিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান মুকুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে লকডাউনে হাজার হাজার মানুষকে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান যে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন, তা অবিস্মরণীয়। খাদ্য সহায়তা পেয়ে সীমান্তবর্তী এই উপজেলার অসহায় মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। এ জন্য এই উপকারভোগীরা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের জন্য অনেক দোয়া করেছে। আর এই গরিব মানুষদের দোয়া আল্লাহ অবশ্যই কবুল করবেন।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না বলেন, ‘আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এই সময় অবাধ চলাফেরা করলে করোনা মোকাবেলা সম্ভব হবে না। আপনাদের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে কালের কণ্ঠ ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। সবাই এই ত্রাণসামগ্রী সাত থেকে ১০ দিন ঘরে বসে খেতে পারবেন।’ প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের এই ত্রাণ সহায়তা আপনাদের জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। আপনারা যত দিন এই খাদ্যদ্রব্য খাবেন, অন্তত পক্ষে তত দিন কোনোভাবেই ঘর থেকে বের হবেন না। আপনাদের ঘরে রাখতেই বসুন্ধরা গ্রুপ এই খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। তাই করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে কেউ বাইরে ঘোরাঘুরি করবেন না। সব সময় মাস্ক পরে থাকবেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘সরকার আমাদের বাঁচানোর জন্য লকডাউন দিয়েছে। আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানি, লকডাউন না মানি, তাহলে করোনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তাই আপনাকে ঘরে থাকতে হবে। নিজে ভালো থাকবেন, ঘরের মানুষকে ভালো রাখবেন। দেশের এই দুঃসময়ে যারা দেশের মানুষকে সহযোগিতা করছে, দেশের সরকারকে সহযোগিতা করছে, সেই বসুন্ধরা গ্রুপকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আলম টুলু বলেন, ‘কালের কণ্ঠ শুভসংঘ জেলার সমগ্র উপজেলায় কর্মহীন দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। শুভসংঘ চেষ্টা করছে সমাজের শুভ শুভ কাজ করতে। আমরা চাই শুভসংঘ যেন এমন আরো শুভ কাজগুলো করে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে আমি বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের জেলার অসহায় মানুষদের ত্রাণ সহায়তা করার জন্য।

About admin

Check Also

সবচেয়ে বেশি ভিউয়ের রেকর্ড গড়লো স্পাইডার/ম্যান; নো ওয়ে হোম,এর ট্রেলার- দেখুন ভিডিও

সবচেয়ে বেশি ভিউয়ের রেকর্ড গড়লো স্পাইডার/ম্যান; নো ওয়ে হোম,এর ট্রেলার সনি পি;,কচার্সের ‘স্পাইডারম্যান: নো ওয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *